

কমলগন্জ উপজেলার বেশির ভাগ ফুটপাতে হাঁটার কোন উপায় নেই। স্থায়ী দোকানপাটে ঢোকার কোন পথ নেই, এখানকার রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট। ফুটপাত দখলে থাকায় পথচারীরা বাধ্য হন রাস্তায় নেমে চলতে। যত্রতত্র গাড়ি ও রিকশা টমটম পার্কিং তো রয়েছেই। এ কারণে যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি বাজার, বিপনি বিতান। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কেনাকাটায় আসা পুরুষ, মহিলা, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ও পর্যটকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারের চৌমুহনী আফতাব শপিং কমপ্লেক্স এর সামনা, রেল স্টেশন রোড, ১০ নং রোড, উপজেলা চৌমুহনী, আদমপুর ও শমশেরনগর পঞ্চমোহনা দিয়ে ভারতের কৈলাশহরের সঙ্গে চাতলাপুর স্থল শুল্ক সড়ক, শ্রীমঙ্গল-কুলাউড়া ও মৌলভীবাজারের সঙ্গে রয়েছে সরাসরি যোগাযোগ। প্রতিটি রাস্তার দু’পাশে সিএনজি অটোরিকশা, টমটম ও ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফলমুলের দোকান স্থান দখল করে নিয়েছে। ফলে সড়ক দিয়ে দুটি গাড়ি ক্রস করার সময় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে সময় অপচয় হচ্ছ, দুর্ঘটনাও ঘটছে, কখনও কখনও হাতাহাতি থেকে মারামারিতে রূপ নিচ্ছে। সারিবদ্ধ টমটম অটো রিক্সা দোকানপাটকে আড়াল করে অস্থায়ী টমটম স্টেন্ড বানানোর কারণে কাস্টমার হারাচ্ছেন দোকানদার, ব্যবসায় লস করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে উপজেলার শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন, চা বাগান, পুলিশ ফাঁড়ি, ব্যাংক-বীমা, পোস্ট অফিস, বিএএফ শাহীন কলেজ, সুজা মেমোরিয়াল কলেজ, এএটিএম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আব্দুল মছব্বির একাডেমি, মাদরাসা, আইডিয়াল কে.জি, প্রাইমারী কেজি স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে এ বাজারে। শিক্ষার্থী পথচারী এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। এই বাজারে সড়কের দুপাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠছে কয়েক শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘক্ষণ ঝানঝট অসহনীয় হয়ে উঠে যাত্রা।
স্থানীয়রা জানান, ‘যানজটের মূল কারণ হচ্ছে শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশে অপরিকল্পিতভাবে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ব্যাংক, বিমা অফিস গড়ে উঠেছে কিন্তু সেগুলোর নির্দিষ্ট কোনো পার্কিং ব্যাবস্থা নেই, রেস্তোরাঁ ও ব্যাংকে আসা কাস্টমারদের গাড়ি পার্কিং করা হয় সড়কেই। এতে পথচারী ও যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের।
পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে চলে যাওয়ার পর আবারও কিছুসংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী ফুটপাত ও সড়কের পাশে বিভিন্ন পণ্যের পসরা নিয়ে বসে। যেসব ব্যবসায়ী নিষেধ অমান্য করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
ভানুগাছ বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, সিএনজি অটোরিকশা ও টমটম দোকান আড়াল করে রাখায় ক্রেতাদের যাতায়াতে দুর্ভোগে পোহাতে হয়। এ বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত কেউ কোনো কথা বলেন না, বলে তাদের রয়েছে অভিযোগ। তিনি বলেন, যানজট এখন নিত্যসঙ্গী। তাছাড়া ওভারলোডের বালুবোঝাই ট্রাক ঘনঘন চলাচলের কারণে যানজট প্রকট আকার ধারণ করে।এর মধ্যে পিকনিক ও পর্যটকদের বহন করা বিরাট বাস পার কিং এর সময় বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়,ট্রাফিক কন্ট্রোল না থাকার কারনে।
ভানুগাছ বাজার পৌর বণিক কল্যাণ সমিতির সহ- সভাপতি কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ ব্যবসায়ীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তার পরও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ’
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘সড়কে যানজট নিরসনে ব্যবসায়ী সমিতিকে বলা হয়েছে রাস্তার আশপাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও যানজট কমানোর জন্য। তাছাড়া রাস্তা ক্লিয়ার রাখার জন্য পুলিশ কাজ করছে। কোনোভাবে যানজট তৈরী করা যাবে না। চেকপোষ্ট বসিয়ে পুলিশ যানজট নিরসনের জন্য কাজ করছে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান করে দখলমুক্ত করা হবে। তিনি বলেন কোনো ভাবে রাস্তায় যানজট তৈরী করা যাবে না।’ তবে অবৈধ টমটম অটোরিক্সা যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে রাস্তায় তার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি।